ছবি সংগৃহীত
আলো ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ক্ষমতা দখলকারী সরকার ইতিহাসকেও দখল করার পাঁয়তারা করছে।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) ১০এপ্রিল প্রজাতন্ত্র দিবস ঘোষণার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপির এ নেতা বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচন, ২ মার্চের প্রেক্ষাপট এসবই মুক্তিযুদ্ধের মাইলফলক, যুগান্তকারী মাইলফলক ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ। আবার ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাও মাইলফলক। এসবরই প্রতিফলন ১০ এপ্রিল প্রজাতন্ত্র দিবস। সেক্ষেত্রে এসব মাইলফলক কোনটা রাখবেন, কোনটা রাখবে না, তাহলে তো ইতিহাস ঠিক থাকবে না। ইতিহাস পথভ্রষ্ট হবে। ক্ষমতা দখলকারী সরকার ইতিহাসকেও দখল করার পাঁয়তারা করছে।
সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার অস্ত্রই হচ্ছে জনগণকে ভয়ভীতি দেখানো- এগুলো করেই তারা ক্ষমতায় থাকতে চায় এ কথা জানিয়ে খসরু বলেন, স্বৈরাচার সরকারের ডাকে কেউ ৭ জানুয়ারি (দ্বাদশ) নির্বাচনে ভোট দিতে যায়নি। স্বৈরাচার সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। ৯৫% মানুষ ভোট দিতে যায়নি, ৫% যাও ভোট দিয়েছে সেখানেও বিতর্ক আছে। আবার ৫% মানুষ ভোট সুষ্ঠু হয়নি বলে দাবিও করেছেন।
তিনি বলেন, নৌকা নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার সাহস নাই আওয়ামী লীগের। স্থানীয় নির্বাচনে তাই দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান থাকলেও; তারা নৌকা প্রতীক বাদ দিয়ে উপজেলা নির্বাচন করতে যাচ্ছে। জনগণের কাছে যাওয়ার মুখ নেই, তাই এগুলো করছে তারা। ভাওতাবাজির নির্বাচন হতে যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। ভোট চুরির প্রকল্প বাস্তবায়ন করেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে।
খসরু আরও বলেন, যে দেশে নির্বাচন ব্যবস্থায় নেই, সেখানে নির্বাচনে অংশ নেয়া বা যাওয়া না যাওয়ার আলোচনা আসে কীভাবে? যে দেশে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, অংশ গ্রহণ নেই সেখানে কিসের নির্বাচন? ধাপ্পাবাজির নির্বাচন হতে যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচন।
তিনি বলেন, একটা ভোট চুরির প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো জাতিকে জিম্মি করে রেখেছে সরকার। ৭ জানুয়ারিতে দেশের জনগণ তাদের অবস্থান পরিস্কার করে দিয়েছে। বিএনপিকে ভাঙতে পারেনি সরকার, টাকা-পয়সা, জেল-জুলুম করেও ভাঙতে পারেনি। বিএনপি কর্মীরা কোনো সমঝোতা করেননি। জোট ও আন্দোলনে শরিকদের সাথে কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে সবাই।
আন্দোলন হবে কিনা? আন্দোলন হালুয়া-রুটির আন্দোলন ছিলো না- এ আন্দোলন ছিলো জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন, এই আন্দোলন চলমান আছে। আন্দোলনে সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে, ফেইল করার কোনো স্থান নেই।
জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব আরও বলেন, দুলাল নামে একজন উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছিলেন। এখন তিনি আইসিইউতে আছেন। তাকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তুলে নিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো। তাহলে কীভাবে উপজেলা নির্বাচন হবে?
