ছবি সংগৃহীত
আলো ডেস্ক
বিড়ি শিল্পে ট্যাক্স ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকালে রংপুর কালেক্টরেট সুরভি উদ্যানেরর সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
শ্রমিকদের দাবি গুলো হলো, বঙ্গবন্ধুর আমলে বিড়ি শিল্পে কোন ট্যাক্স ছিল না, তাই বর্তমানে বিড়ি শিল্পের উপরে কোন ট্যাক্স না রাখা, অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা, বিদেশী কোম্পানির নিম্নস্তরের সিগারেট বন্ধ করা এবং বিড়ি শিল্পের শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি করা।
মানববন্ধন শেষে রংপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চার দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন শ্রমিকরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘বিড়ি এ দেশের প্রাচীন শ্রমঘন একটি শিল্প। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২০০টি বিড়ি কারখানা রয়েছে। এসব বিড়ি কারখানায় এই অঞ্চলের হতদরিদ্র, স্বামী পরিত্যক্তা, বন্যা কবলিত জনগণ, শারীরিক বিকলাঙ্গসহ লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিকশিত হয়েছিল এই শিল্প। তিনি এই শ্রমঘন শিল্পটি শুল্ক মুক্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে দেশি-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্রে বিড়ির ওপর মাত্রাতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অসম শুল্কের ভারে প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। একইসাথে শ্রমিকরা কর্ম হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। যেহেতু বঙ্গবন্ধুর আমলে বিড়ি শিল্পে কোন ট্যাক্স ছিল না, সুতরাং বর্তমানেও বিড়ি শিল্পের উপরে কোন ট্যাক্স না রাখার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া বিড়ি শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি করতে হবে।’
বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের, সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন, লুৎফর রহমান, জামিল আক্তার, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম প্রমূখ।
