রাজশাহীতে সরকারি গাছ কাটতে নিষেধ করায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা, আহত ২
স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন মেহের চন্ডি কড়ইতলা, দক্ষিণপাড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার (২৭জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড় ৭টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের (৭২) ডান হাতে ধারালো অস্ত্র চাকুর আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয় এবং ছেলে হারুনুর রশিদ (৫০) কে কাঠের তৈরি ব্যাট, এস এস পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এরপর স্থানীয় লোকজন তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক হারুনুর রশিদের পুরো শরীর ছিলা, ফোলা মারের দাগ দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের ডান হাতে কাটা জায়গায় ৬টি সেলাই দেয়। চিকিৎসা শেষে রাতেই চন্দ্রিমা থানায় হাজির হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
আসামীরা হলো: মোঃ সুমন (৩০) পিতা মনিরুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর (৫০), (পলাশের মামা) পিতা -শুকুর আলী, লুৎফর রহমান (২৫) পিতা মৃত আনসার আলী, কাজল (২৪) পিতা আকবর, মোসা: সাহেরা (৭০), স্বামী শুকুর আলী সহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন। এ বিষয়ে হারুনুর রশিদ রাজশাহীর আলো প্রতিবেদককে বলেন, আমি যেখানে বসবাস করি পাশে একটি ছাত্রাবাস ছিল। দীর্ঘদিন থেকে আমি দেখাশোনা করার দায়িত্বে ছিলাম।
ছাত্রাবাসটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জায়গাটি বিক্রি করে দেয় ছাত্রাবাসের মালিক। এ কারণে একতলা বিশিষ্ট টিনসেডের ছাত্রাবাসটি ভেঙে ফেলা হয় এবং এখনো ভাঙ্গা চলমান রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ দেখভালের দায়িত্ব আমার উপরে দেয়া আছে। ছাত্রাবাসের সিলিং ফ্যান, টিনসহ অন্যান্য মালামাল যেখানে রাখা আছে, সেখান থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে। মোঃ সুমন (৩০), পিতা মনিরুল ইসলাম আমার প্রতিবেশী। আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া আসা করে।
তার ব্যবহৃত বাইসাইকেল আমার অটো গ্যারেজে রাখে। গত ২ দিন আগে চুরি যাওয়া মালামালের কিছু অংশ আমি সুমনের হেফাজত থেকে জব্দ করি। তাকে জিজ্ঞেস করি সিলিং ফ্যান ও টিন কতগুলো চুরি করেছিস। এ সময় তার নানী সাহেরা (৭০), স্বামী শুকুর আলী এসে আমার হাত পা ধরে। বলে এ বিষয় আর বাড়িও না, আমি সুমনের মামার সাথে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করছি। এ সময় সুমন কে জিজ্ঞেস করি তুই সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করছিস কেন।
এ সময় রাগান্বিত হয়ে সুমন বলে আমি সরকারি গাছ কাটছি তো আপনার কি, আপনাকে আমি দেখে নিব বলে চলে যায়। তারা রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে। এরপর হঠাৎ গত শনিবার সাড়ে ৭টার দিকে মোঃ সুমন(৩০) পিতা মনিরুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর (৫০), (পলাশের মামা) পিতা -শুকুর আলী, লুৎফর রহমান (২৫) পিতা মৃত আনসার আলী, কাজল (২৪) পিতা আকবর সহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন আমার অটো গ্যারেজে এসে অতর্কিতভাবে আমরা চালাই।
তারা ভাড়া করে সন্ত্রাসী বাহিনীর নিয়ে এসে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। এস এস পাইপ, কাঠের তৈরি ব্যাট, স্ট্যাম দিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকে। তাদের মধ্যে একজন আমাকে চাকু মারতে গেলে আমার বাবা হাত দিয়ে চাকুটি ধরে ফেলে এর ফলে আমার বাবার হাত কেটে যায় এবং হাতে ৬টি সেলাই পড়ে। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, মামলা করার পরেও আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মাহবুব আলমের মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, মারামারির ঘটনা শুনেছি, একটি মামলাও হয়েছে, আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
