রাজশাহী মহানগরীতে বেতনের দাবিতে কারখানার ভিতরেই শ্রমিকদের রাত্রি যাপন
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
রাজশাহী মহানগরীর ১টি কারখানায় বেতন না পেয়ে কারখানার ভিতরে রাত্রিযাপন করেন শ্রমিকরা। গার্মেণ্ট কারখানার নাম ‘সাকোয়াট্রেক্স’। এই কারখানার মালিক রাজশাহী-৪ (সমগ্র বাগমারা উপজেলা) আসনের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক।
গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পাননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকট পরাজিত হন। এই মহানগরীর বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত “সাকোয়াট্রেক্স” কারখানাটিতে ৩০০ শ্রমিক কর্মরত আছেন। সবার বেতন বকেয়া পড়েছে।
বেতন আদায়ের জন্য তারা গত বুধবার সকাল থেকে কারখানার ভিতরে অনশন শুরু করেন। এই কনকনে ঠান্ডায় সারা রাত্রি তারা কারখানার ভিতরেই ছিলেন। গত শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তারা এই কারখানার ভিতরে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন।
সেই রাত্রিতে তাদের সবাইকে ১ মাসের বেতন দেওয়া হয়। ইহার পর শ্রমিকরা কারখানা থেকে চলে যান। এই কারখানায় কর্মরত পিয়ারা বেগম আমাদের প্রতিবেদককে জানান, তিনি ৪ মাস থেকে বেতন পাননি। তিনি সর্বশেষ গত নির্বাচনের সময় বেতন চাইতে গেলে তাকে বলা হয় যে, এই কারখানার মালিক এনামুল হক নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। ভোট পার হয়ে গেলে আপনাদেরকে বেতন দিবেন।
পিয়ারা বেগম এর ছেলেও এই কারখানার একজন শ্রমিক। তিনিও ৩ মাস বেতন পাননি। এই নির্বাচনে এনামুল হক পরাজিত হন। বেতনের কোন খবর নাই। এই কারখানার শ্রমিকরা আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, আমরা কেউ ৩ মাস, কেউ ৪ মাস, কেউ ৮ মাস ধরে বেতন পাইনি। আমাদের বাড়িভাড়া বাকি, দোকানে বাকি। আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে।
আমরা দিতে পারিনি বাড়িভাড়ার টাকা, দোকানের জিনিসপত্রের বাকি টাকা। আমাদের মধ্যে অনেক শ্রমিকের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। তাই বেতন না পেয়ে আমরা বিক্ষোভ শুরু করি। শ্রমিকরা আরও বলেন, আমরা বেতন চাইতে গেলে কারখানার কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যুবহার করেন। যারা বেতন চাই তাদের নামের তালিকা তৈরী করা হয়। ইহার পরদিন থেকে তাদেরকে এই কারখানায় আর ঢুকতে দেওয়া হয় না।
অতি সম্প্রতি এইভাবে ১৫-২০ জনকে চাকুরী থেকে ছাঁটাই করা হয়। শম্পা খাতুন নামের আরও এক মহিলা শ্রমিক বলেন, গত ৩-৪ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহেই আমাদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রতি সোমবার- বৃহস্পতিবার বেতন দেওয়া হবে বলে এই কারখানার কর্মকর্তারা জানান। কিন্তু বেতন দেওয়া হয় না। আমরা মাসের পর মাস এইভাবে বেতন ছাড়া কাজ করে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
এই কারখানার লিংকিং অপারেটর আশা বেগম আমাদের প্রতিবেদককে জানান, এই কারখানার শ্রমিকরা উৎপাদনের উপর নির্ভর করে পারিশ্রমিক পান। প্রতি মাসে তারা ১৭ হাজার টাকা করে বেতন পান। এই কারখানার ২০০ শ্রমিকের মধ্যে কেউ সর্বনিম্ন ৩ মাস, কেউ সর্বোচ্চ ৮ মাসের বেতন পাবেন। আমার ৪ মাসের বেতন বাকি আছে। এইজন্য আমার বাসা ভাড়া বাকি আছে। দোকানে অনেক টাকা বাকি আছে।
এখন আমি আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছিনা। আমি খুবই বিপদে জীবনযাপন করছি। এই বিষয়ে এই দেশের স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান” এনা গ্রুপ” এর এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, এই কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়েছে। আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন সবকিছু স্বাভাবিক আছে। আমার কারখানার শ্রমিকরা পুরোদমে কাজ করছে।
