আলো ডেস্কঃ দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের পার্মান্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি (পররাষ্ট্রসচিব) স্যার ফিলিপ বার্টন। আজ সোমবার সকালে তিনি ঢাকায় পৌঁছেন। যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ পঞ্চম কৌশলগত সংলাপে অংশ নিতে তার এ ঢাকা সফর। আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ওই সংলাপ হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সংলাপে প্রস্তাবিত বন্দিবিনিময় চুক্তি ও পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলতে পারে বাংলাদেশ। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং এর জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করতে পারে। সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।
ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন জানায়, সংলাপে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও উন্নয়নমূলক অংশীদারি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ অন্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে।
সেই সঙ্গে এই সংলাপ দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কপ২৮ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সহায়তা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের প্রস্তাব তুলে ধরবে।
ঢাকা সফরকালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী ও তরুণ নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে, প্রায় দুই বছর পর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই দেশ তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বা রূপরেখা প্রকাশের পর এটিই প্রথম সংলাপ।
এবারের সংলাপের প্রস্তুতি হিসেবে গত মাসের শেষদিকে একটি আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বা রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার চলছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে দণ্ডিত ও ফেরারি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করে আসছে।
এ ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর হলে তাদের ফিরিয়ে আনা সহজ হতে পারে। এ ছাড়া বন্দিবিনিময় চুক্তি নিয়েও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, উন্নয়ন সহায়তা, সুশাসন, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবের বিষয় সংলাপে উঠতে পারে। যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। তারই আলোকে যুক্তরাজ্য ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন ও চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান প্রত্যাশা করতে পারে।
এ ছাড়া গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতার বিষয়টিও যুক্তরাজ্য প্রতিনিধিদল সংলাপে তুলতে পারে।
