আলো ডেস্কঃ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৯১টি পরিবারের নিবন্ধন তালিকাভুক্তি করা হয়েছে এবং ১ লাখ ৫১ হাজার ৪২৭টি পরিবারকে এসএসকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সদস্য দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জনান। এ দিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ হেলথ কেয়ার ফাইনান্সিং স্ট্র্যাটেজি ২০৩২ প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রণীত স্ট্র্যাটেজির অধীনে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রাথমিকভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে মার্চ, ২০১৬ থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) শীর্ষক পাইলট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসএসকে-এর অধীনে টাঙ্গাইল জেলার সব (১২টি) উপজেলার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে আর বিভাগে অধিকৃত রোগী সেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ আরও ৬টি জেলায় (বরগুনা, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, মানিকগঞ্জ ও বারিশাল) এসএসকে সম্প্রসারণের কাজ শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, ৩০ জুন, ২০২৩ পর্যন্ত দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী সর্বমোট ২৭২,৩৯১টি পরিবারের নিবন্ধন তালিকাভুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সর্বমোট ১,৫১,৪২৭টি পরিবারকে এসএসকে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
এসএসকে কার্যক্রমের আওতায় বর্ণিত উপজেলাগুলোতে এ যাবত ৪৫,৬৯৬ জন রোগীকে আইপিডি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা সেবা বাবদ গত জুন পর্যন্ত ২১৭৯.১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে এসএসকে কার্যক্রমের বেনিফিট প্যাকেজের আওতায় রোগের সংখ্যা ৭৮টি থেকে ১১০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সহায়তায় ১১০টি রোগের ক্লিনিক্যাল প্রোটোকল অনুসরণ করে মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য সেবাদান করবেন।
আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবরার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। জাহিদ মালেক বলেন, তামাক ব্যবহার, ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বাংলাদেশে বছরে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ দেখা যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক অফিসের বাংলাদেশ ফ্যাক্টশিট ২০১৮ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তামাকজনিত কারণে মৃত্যুহার কমানোর জন্য তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়-বিভাগ-অধিদপ্তর-দপ্তর, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।
তামাকের ব্যবহার কমানোর জন্য তামাকের উপর উচ্চহারে কর আরোপ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেট পেশের আগেই তামাকের ওপর উচ্চহারে করারোপ করা প্রয়োজন। আর এবারের বাজেট পেশের আগেই তামাকের ওপর কর বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব সম্বলিত ডিও লেটার অর্থমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়েছিল।
