আলো ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে অটোভ্যান থেকে নামিয়ে মোছা. ফারজানা আক্তার পিয়া (২২) নামে এক ইপিজেড কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মো. লকিম উদ্দিন (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধানাইদহ-ল²িকোল সড়কের মশিন্দা বিলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে নিহত ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে।
একই সঙ্গে একজনকে আটকও করা হয়। নিহত ফারজানা আক্তার উপজেলার মেরিগাছা গ্রামের শহীদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর আটক লকিম উদ্দিন একই গ্রামের মৃত ওয়াজ সরকারের ছেলে। বগইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক জানান, রংপুর এলাকার অনি নামে এক যুবকের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে একটি সন্তান আছে।
তবে পারিবারিক কলহের কারণে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে ফারজানা আক্তার বাবার বাড়িতে থেকে ঈশ্বরদী এলাকায় ইপিজেডে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এজন্য তিনি নিয়মিত বাবার বাড়ি থেকে তার কর্মস্থল ঈশ্বরদীতে যাতায়াত করতেন। তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে কাজ শেষে ইপিজেড থেকে বাসে করে বাড়ি ফিরছিরেন ওই নারী। রাত পৌনে ৯টার দিকে বড়াইগ্রামের কয়েন বাজারে এসে বাস থেকে নেমে পড়েন তিনি।
এরপর সেখান থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে উপজেলার ধানাই দহ-ল²িকোল সড়কের মশিন্দা বিলের মধ্যে চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাকে ভ্যান থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে বিলের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় ভ্যান চালকের চিৎকারে লোকজন ছুটে এলে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে একটি পাটের জমির আইলে তার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন তারা।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ওই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে রাতেই অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে লকিম উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। গতকাল শনিবার সকালে নিহত ফারজানার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আটক অলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির পৃথক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তে নেমেছে। এই ঘটনার সঙ্গে নিহত ওই নারীর সাবেক স্বামী জড়িত আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
