আলো ডেস্ক: রাজশাহীতে সরকারি রাজস্বের প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজশাহীর পবা উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক নাজির কাম হিসাবরক্ষক কাজেম আলীর নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি রাজশাহী মহানগরীর কেশবপুর মহল্লার আলী হোসেনের ছেলে।
গতকাল রোববার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, কাজেম আলী পবা উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম হিসাবরক্ষক থাকাকালে ডিসিআরের মাধ্যমে আদায়কৃত রাজস্বের অর্থ ট্রেজারি চালান টেম্পারিং এবং টাকার অঙ্ক বিকৃত করে মোট আদায় থেকে ৭০ লাখ টাকা উধাও করেন।
এ ছাড়া সরকারি চালান জালের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব থেকে আরও ৯ লাখ ২৬ হাজার ২৮১ টাকা আত্মসাৎ করেন। কাজেম আলী ২০১০ সালের ২৬ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উপজেলা ভূমি অফিসের নাজিম কাম হিসাবরক্ষক থাকাকালে ডিসিআর (সরকারি রাজস্ব খাত) বাবদ মোট ৮৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩১ টাকা সরকারি চালানের মাধ্যমে আদায় করেন। এ টাকার মধ্যে ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করেন। বাকি ৭৯ লাখ ২৬ হাজার ২৮১ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন।
বিষয়টি প্রথমে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় নজরে আসে। প্রাথমিক অভিযোগের পর দুদকের অনুসন্ধানে এ বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি শনাক্ত হয়। দুদক প্রধান অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে গতকাল রোববার রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কাজের আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনের ৪০৯/৪২০/৪৬৭/ ৪৬৮/৪৭১/৪৭৭ (এ) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) আমির হোসাইন জানান, প্রাথমিক তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাজেম আলী পবা উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম হিসাবরক্ষক থাকাকালে রাজস্বের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অনুসন্ধানে শনাক্ত হলে তাকে বদলি করে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাধারণ শাখায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক করা হয়। সম্প্রতি কাজেম আলী অবসর প্রস্তুতি ছুটিতে (পিআরএল) গেছেন।
