আলো ডেস্ক: নিবন্ধন পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সাতদিন সময় বেঁধে দিল গণ অধিকার পরিষদ (একাংশ)। এই সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে সরাসরি ইসি ঘেরাও করবে দলটি। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি থাকলেও নুরের নেতৃত্বাধীন গণ অধিকার পরিষদের প্রতিনিধিদল ইসিতে এসে এ-সংক্রান্ত আবেদন জমা দেয়।
এর আগে দলের নেতাকর্মীরা পল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে ইসি ঘেরাওয়ের উদ্দেশে যাত্রা করলেও পথে আটকে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর প্রতিনিধিদলটি ইসিতে আসে। গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দাবি না মানলে এবার আর দলীয় কার্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করব না।
সরাসরি ইসিতে এসে ঘেরাও করব। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে পুনর্বিবেচনার জন্য আপনারা আবেদন করতে পারেন। সেই জায়গা থেকে আমরা আবেদন জানিয়ে সাতদিনের আল্টিমেটাম দিয়েছি। গণ অধিকার পরিষদের (একাংশ) সভাপতি নুরুল হক নুরের সই করা আবেদনে বলা হয়, শুধু তার দল নয়, তালিকায় থাকা সক্রিয় কার্যকর দলগুলোকে নিবন্ধন দিতে হবে।
দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বিজয় নগর কালভার্ট রোডের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে রওনা দেন নেতাকর্মীরা। মিছিলটি পল্টন, জিরো পয়েন্ট, মৎস্যভবন, শাহবাগ হয়ে বাংলামোটর মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ আটকে দেয়। রাজপথের সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধন না দিয়ে সরকারের অনুগত ও নামসর্বস্ব দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেন নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, আজ প্রশাসনসহ পুলিশ ভাইদের অনুরোধ করব, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে এখান থেকে মিছিল নিয়ে যাব। আমরা আজ সরকার পতনের চ‚ড়ান্ত দফা আদায়ে নামিনি।
আমরা ইসির প্রতি ধিক্কার জানিয়ে, প্রতিবাদ জানিয়ে কমিশন অভিমুখে যেতে চাই। তিনি বলেন, আপনারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) সর্বোচ্চ নির্বাচন কমিশনে ঢুকতে আমাদের বাধা প্রদান করতে পারেন। এর আগে রাস্তায় কোথাও বাধা দিয়ে, উসকানি দিয়ে পরিস্থিতির অবনতি করবেন না। এখানে যারা আছে সবাই ছাত্র-যুবক-তরুণ।
এই অদম্য তারুণ্যকে বন্দুকের নল দেখিয়ে, কামানের ট্যাঙ্ক দেখিয়ে দমানো যাবে না। আপনারা যদি উসকানি দেন, তাহলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। নিবন্ধনের জন্য ইসির আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ৯৬টির মতো আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক বাছাইয়ে ১২টি দল টেকে। এরপর অধিকতর বাছাইয়ে সেই তালিকা আরও ছোট হয়ে চারটিতে নেমে আসে। যেখানে গণ অধিকার পরিষদের নামও ছিল।
চারটি দলের জন্য উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়ে নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) নামের দল দুটিকে চূড়ান্ত করে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে তা জানানোর জন্য গণবিজ্ঞপ্তি দেয় ইসি। তালিকা থেকে বাদ পড়া দলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া ছাড়াও তালিকায় থাকা দল দুটির বিরুদ্ধেও আপত্তি জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশনে। বুধবার আপত্তি জানানোর শেষ সময়।
