আলো ডেস্ক: রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট মো. ইয়াসিন উদ্দিন লিটন ওরফে লিটন আখন্দ ওরফে শুটার লিটনকে (৩৬) অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার লিটন কন্ট্রাক কিলিংসহ মোটা অংকের টাকার বিনিময় যে কাউকে হত্যা করতে দিধাবোধ করতেন না। যার কারণে তিনি শুটার লিটন নামে খ্যাত। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৭টি মামলা রয়েছে।
গত সোমবার রাতে র্যাব-১০ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর বিজিবি মার্কেট এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট শুটার লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, ৩ রাউন্ড গুলি, ৩৪৮ ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির নগদ ৫১ হাজার ৫০ টাকা জব্দ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক এএসপি এনায়েত কবির সোয়েব এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার শুটার লিটন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, মুগদা, পল্টন, মতিঝিল, কদমতলী ও কেরাণীগঞ্জসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারি, চাঁদাবাজি, অবৈধ ভূমি দখল, ধর্ষণ ও হত্যাসহ বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে আসছে। তার কাজে কেউ বাঁধা দিলে শুটার লিটন বাঁধা প্রদানকারীদের মারধর করে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতিসহ প্রাণে নাশের হুমকি প্রদর্শন করতেন।
গ্রেপ্তার শুটার লিটন দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন। লিটন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এসব এলাকায় মাদক কারবার পরিচালনা করত যার কারণে কেউ ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস করত না। র্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেপ্তার লিটন বিভিন্ন অর্থবিত্ত ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিসহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করত।
দাবি করা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিটন তাদের মারধরসহ বিভিন্ন শারিরীক নির্যাতন করতেন এবং প্রয়োজনে তাদের হত্যা করতেন। এএসপি এনায়েত কবির সোয়েব বলেন, লিটন কন্ট্রাক কিলিংসহ মোটা অংকের টাকার বিনিময় যে কাউকে হত্যা করতে দিধাবোধ করতেন না। যার কারণে তিনি শুটার লিটন নামে খ্যাত। এছাড়াও লিটনের বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মুগদা ও পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা, দুটি অস্ত্র মামলা, তিনটি মাদক মামলা এবং ছিনতাই ও চাঁজাবাজিসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে।
