আলো ডেস্ক: ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তিতে সারাদেশে ১৯টি কেন্দ্রের ৫৭টি ভেন্যুতে আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর মোট আবেদনকারীর সংখ্যা এক লাখ ৩৯ হাজার ২১৭ জন। প্রতি আসনের বিপরীতে ১২ দশমিক ৫ জন লড়বে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষাবিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ পরীক্ষা সংক্রান্ত, কোনো ধরনের গুজবে কান দেওয়া যাবে না। পরীক্ষার হলে কোনো ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কান উন্মুক্ত করে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, এ বছর মেধা কোটায় তিন হাজার ৩৮৪ জন, জেলা কোটায় ৮৪৬ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৮৭ জন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৩৩ জনকে নির্বাচন করা হবে। এ ছাড়া ৭১টি মেডিকেল কলেজের ছয় হাজার ৭৭২টি আসনের বিপরীতে ৩৩ হাজার ৮৬০ জন মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে ভর্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তিনি জানান, এক লাখ ৩৯ হাজার ২১৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে ছেলে ৬৪ হাজার ২৬৪ জন, মেয়ে ৭৪ হাজার ৯৫৩ জন। সরকারি প্রতিটি আসনের জন্য পরীক্ষার্থী ৩২ জন।
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি আসনের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ১২ দশমিক ৫ জন। সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা চার হাজার ৩৫৯ জন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৬ হাজার ৭৭২টি সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটো মিয়া প্রমুখ।
মানতে হবে যেসব নির্দেশনা: পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এ নির্দেশনাগুলো ভর্তিচ্ছুদের আবশ্যিকভাবে পালন করতে হবে। সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সাড়ে ৯টার পর প্রধান ফটক বন্ধ হয়ে যাবে। সাড়ে ৯টার পূর্বেই শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার্থীকে হল পরিদর্শকের নির্দেশ ও সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং হল পরিদর্শকের অনুমতি ব্যতীত পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কক্ষ ত্যাগ করতে দেওয়া হবে না।
পরীক্ষার্থীকে অসুদপায় অবলম্বন অথবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে অথবা অন্যের সাহায্য নিতে অথবা অন্যকে সাহায্য করতে দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তার উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। পরীক্ষার হলে মোবাইলফোন, কোনো ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস, ক্যালকুলেটর, হাতঘড়ি বা পকেটঘড়ি নিয়ে প্রবেশ করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
এরপরও পরীক্ষার হলে কারও কাছে উল্লিখিত নিষিদ্ধ কোনো কিছু পাওয়া গেলে অথবা কাউকে এ ধরনের কোনো ডিভাইস ব্যবহার করতে দেখা গেলে তার উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। পরীক্ষার হলে সব পরীক্ষার্থী কোভিড ১৯ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দুই কান ঢেকে রাখতে পারবেন না। হল পরিদর্শকরা উত্তরপত্রে স্বাক্ষর প্রদানের সময়ে শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীর মুখমণ্ডল খোলার নির্দেশনা দিতে পারবেন।
পরীক্ষা কেন্দ্রে উত্তরপত্রের (ঙগজ ঝযববঃ) ওপর মুদ্রিত ১০ অঙ্কের সেট কোডটি প্রশ্নপত্রে মুদ্রিত সেট কোডের সঙ্গে না মিললে কিংবা প্রশ্নপত্রে ক্রমানুসারে এক থেকে একশটি প্রশ্ন না থাকলে উত্তর প্রশ্নপত্রটি পরিবর্তন করে নিতে হবে। উত্তরপত্রের সব স্থানেই কালো কালির বল পেন ব্যবহার করতে হবে। রোল নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর নির্দিষ্ট স্থানে ইংরেজিতে লিখে তারপর সংশ্লিষ্ট বৃত্তগুলো তদানুযায়ী যথাযথভাবে ভরাট করতে হবে। কোনো প্রকার ঘষামাজা বা কাটাকাটি করলে উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। বৃত্তগুলো নিচের প্রদর্শিত পদ্ধতিতে এমনভাবে ভরাট করতে হবে যেন ভেতরের লেখাটি দেখা না যায়।
উত্তরপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশপত্র অনুযায়ী স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে এবং স্পষ্টভাবে নাম লিখতে হবে, অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। উত্তর প্রদান করার আগে পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত উত্তরপত্রটি (ঙগজ ঝযববঃ) নিজ দায়িত্বে সাবধানতার সঙ্গে আলাদা করে নিতে হবে। প্রশ্নপত্রের সঙ্গে দেওয়া উত্তরপত্রে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য চারটি সম্ভাব্য উত্তরের বৃত্ত রয়েছে। তার মধ্য হতে সঠিক উত্তরের বৃত্তটি পরিচ্ছন্নভাবে ওপরে প্রদর্শিত নিয়ম মেনে সম্পূর্ণ ভরাট করতে হবে।
উত্তরপত্রের নির্দিষ্ট বৃত্তসমূহ ভরাট করা এবং নির্দেশিত স্থানে যথাযথ তথ্য প্রদান করতে হবে। এতদ্ব্যতিত অন্য কোনো স্থানে কিছু লিখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং লিখলে উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। খসড়ার জন্য প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা যাবে। কোনো পৃথক কাগজ ব্যবহার করা যাবে না। প্রশ্নপত্রের কোনো অংশ ছেড়া যাবে না কিংবা কারও সঙ্গে বদল করা যাবে না। উত্তরপত্রে হল পরিদর্শকের স্বাক্ষর করার সময়ে পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র আলাদা করা অবস্থায় রাখতে হবে।
উত্তরপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে হল পরিদর্শকের স্বাক্ষর গ্রহণ এবং সম্পূর্ণ নাম লিখা নিশ্চিত করতে হবে। কর্তব্যরত হল পরিদর্শকের স্বাক্ষর ও নামবিহীন উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। পরীক্ষা শেষে হল পরিদর্শকরা প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র আলাদা অবস্থায় পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে গ্রহণ করবেন এবং আলাদাভাবে নির্দিষ্ট খামে ভরবেন। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর প্রদান করা হবে এবং প্রতিটি ভুল উত্তরদানের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হবে।
গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ: ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। গত বুধবার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) ড. মুজতাহিদ মুহাম্মদ হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীরা সকাল ৮টা থেকে নির্ধারিত কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রের প্রধান ফটক বন্ধ হয়ে যাবে। কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
