ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
রাজশাহী অঞ্চলে দিন দিন কমছে কৃষিজমি। গত এক দশকে রাজশাহী মহানগরীতে জমির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক নগরায়নের পথে উন্নয়ন কাজ চলতে থাকায় অনেকে এখন রাজশাহী মহানগরীতে স্থায়ী বসবাসের ঠিকানা গড়ছেন। ইহার ফলে এই মহানগরীতে গড়ে উঠেছে আবাসন প্রকল্প। আর এই কারণে রাজশাহী মহানগরীতে দিন দিন কমতে শুরু করেছে আবাদি জমির পরিমাণ। বেশী লাভের আশায় কৃষিজমি নষ্ঠ করে গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকা। আমাদের দেশের বিভিন্ন জেলার চেয়ে রাজশাহী জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্তশিষ্ঠ।
এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন বাইরে থেকে রাজশাহীতে আসা চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ীরা। এই সময় তারা জমির মালিকদের কাছ থেকে ভাল,আকর্ষণীয় দাম পরিশোধের মাধ্যমে কিনে নিচ্ছেন প্লট, ফ্ল্যাট বাড়ি। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এর দেওয়া তথ্য মতে, ৯৬.৭২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে রাসিক ৩১টি ওয়ার্ডে বিভক্ত। আর এই আয়তনের অর্ধেক ছিল এই মহানগরীতে আবাদি জমি। আর অর্ধেক জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল ঘরবাড়ি,অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এই মহানগরীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে আবাসিক এলাকার সংখ্যা। ইহার ফলে আবাদি জমিগুলি পরিণত হচ্ছে আবাসিক এলাকায়। আমরা জানি, রাজশাহী মহানগরীতে ২০১২ সাল থেকে অপরিকল্পিতভাবে আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠতে শুরু করে। এই মহানগরী থেকে গোদাগাড়ী পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ, কাশিয়াডাঙ্গা মোড় থেকে দারুশা হয়ে কাকনহাট,বিমান বন্দর নওহাটা হয়ে মোহনপুর উপজেলা,বিনোদপুর থেকে পুঠিয়া উপজেলা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে জমি এখন প্লট হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি সাধারণ দামে এইসব জমি কিনে প্লট করে বেশী দামে বিক্রির সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাখছেন।
বিশেষ করে এই মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থেকে রাজাবাড়ী হয়ে গোদাগাড়ী পর্যন্ত রাস্তার দুধারে প্লট আকারে বিক্রি করা জমির পরিমাণ বেশী। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ( আরডিএ) নগর পরিকল্পনায় এখানকার জমিকে ৩ ভাগে ভাগ করেছেন। (১) কৃষি(২) বাণিজ্যিক(৩) আবাসিক এলাকা। এখানকার কৃষি জমি আবাসিক হিসাবে বা শিল্প- কলকারখানা স্হাপনে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা যাবে না। কিন্ত এখন এই মহানগরী, আশপাশের কৃষি জমি আবাসিকভাবে প্লট আকারে বিক্রি হচ্ছে।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ( আরডিএ) নগর পরিকল্পক আজমেরী আফসারী আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, আমরা নগর পরিকল্পনায় যেসব এলাকা চিহৃিত করেছি তার বাইরে কৃষি জমি কেউ প্লট আকারে বিক্রি করলে তা অবৈধ। কেউ যদি কৃষি জমিকে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্হা গ্রহণ করব।
রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মোঃ শরিফুল ইসলাম আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, আমি গত কয়েকদিন আগে রাজশাহী থেকে গোদাগাড়ী উপজেলা যাওয়ার পথে দেখতে পাই যে, এইসব রাস্তার দুধারে কৃষি জমি প্লট আকারে বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড স্হাপন করা হয়েছে। প্লট আকারে কৃষি জমি এইভাবে বিক্রি করা অবৈধ। এই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক( ডিসি) এর সঙ্গে কথা হয় আমার। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
