স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীতে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে লোডশেডিং। চলতি বোরো মৌসুমের শুরতেই প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে বোরো চাষাবাদে বিঘœ ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) তথ্য মতে, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ২৭৬ মেগাওয়াট। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে এর চেয়ে কম। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাজশাহী বিভাগ বিদ্যুৎ পেয়েছে ২২০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি।
এদিকে, মৌসুমের শুরতেই লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে বেশ বেকায়দায় পড়েছেন চাষিরা। এছাড়া সময়মতো বিদ্যুৎ না পেয়ে বেশ নাজেহাল অবস্থায় পড়েছেন নগরবাসী। অনেকেই বিদ্যুতের এই সমস্যা নিয়ে জানতে নেসকোর হটলাইনেও ফোন করছেন।
নগরীর সাহেব বাজার এলাকার ব্যবসায়ী অসীম সরকার বলেন, আমাদের মার্কেট চলে সারাদিন। কিন্তু দিনে অন্তত তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। প্রায় তিন/চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে করে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অন্ধকারে তো আর ব্যবসা করা যাচ্ছে না। হটলাইনে ফোন করলে কেউ ধরে না। বাধ্য হয়ে মোমবাতি ব্যবহার করছি।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর এলকার কৃষক মাসুদ আলী বলেন এবার তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। জমিতে ধান রোপণের পরই বিদ্যুতের যে যাওয়া আসা দেখছি তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। এখনই যদি পানি দিতে এই সমস্যা হয় তাহলে পুরো মৌসুমে কীভাবে চাষ করবো। এবার কী ঠিক সময়মতো পানি দিতে পারবো কী না সেই নিয়ে ভাবনায় আছি।
রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজদার হোসেন বলেন, রাজশাহীতে বোরো আবাদ শুরু হয়েছে। অনেকেই ধান লাগিয়েছেন। বেশিরভাগ কৃষকই এখন জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত। এ এলাকার প্রায় সব জমিই গভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল। এখন পর্যন্ত জমিতে পানির তেমন চাহিদা দেখা দেয়নি। বিদ্যুতের সমস্যা হলেও তার প্রভাব তেমন পড়ছে না।
আগামীতেও এই সমস্যা তেমন জটিল হবে না বলে তিনি আশাবাদী। লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে নেসকোর রাজশাহী অঞ্চলের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন, গত ১৫ দিন ধরেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ না পেয়েই আমাদের লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কখনো কখনো রাতেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
