আলো ডেস্ক: মওলানা ভাসানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানিয়েছেন ভাসানী অনুসারীরা। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মওলানা ভাসানীর ১৪২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান। মানববন্ধন আয়োজন করে ন্যাপ ভাসানী ও ভোটার মঞ্চ। মানববন্ধন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধনের বিধান বাতিল করার পাশাপাশি সহজভাবে নিবন্ধন দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান বঙ্গদীপ এম এ ভাসানী বলেন, আজ (গতকাল সোমবার) সরকারের উচিত ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে মওলানা ভাসানীর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা।
অথচ তারা ভাসানীর অবদানকে ভুলে গেছে। আমাদের দাবি, মওলানা ভাসানীর মৃত্যু বার্ষিকী ও ১২ ডিসেম্বর জন্ম বার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হোক। তিনি আরও বলেন, এ দেশে ৫ বছর পর পর নিবন্ধনের বিধান বাতিল করতে হবে। ৩০০ আসনের প্রার্থী দেওয়ার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন দলের পাশাপাশি ৩০টি আসনের নিচে প্রার্থী দেওয়া দলগুলোর শর্ত কখনই এক হতে পারে না। এখানে ভিন্নতা আনতে হবে। নিবন্ধন প্রথা সহজ করার শর্তে সব দলের অংশগ্রহণ অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা এসেছে নিবন্ধন ছাড়াই এ পর্যন্ত আটটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এ কারণে ১০টি জেলা ও ২৫টি উপজেলা কমিটির বিধান রেখে রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধনের সুযোগ দিতে হবে। নিবন্ধন হলো চলমান প্রক্রিয়া ও হালনাগাদ। যেকোনো সময় যেকোনো দল তার শর্ত পূরণ করলে সে দল নিবন্ধন পাওয়ার দাবি রাখে। সমাবেশ থেকে আগামী নির্বাচন উপলক্ষে ন্যাপ ভাসানী ও ভোটার মঞ্চ পক্ষ থেকে সাতটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও অর্থবহ করে তুলতে হলে এখনই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জনগণ ও সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে যৌথ অভিযান চালাতে হবে।
ডিসি ও ইউএনও-দের পরিবর্তে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটানিং অফিসারের দায়িত্ব দিতে হবে। কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতি রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিতে হবে। জাল ভোট রোধে রেশন কার্ডের মতো ভোটার কার্ডের বিধান রাখতে হবে পাশাপাশি অনেক সময় প্রার্থী মনোনয়ন সঠিক হয় না তাই ‘না’ ভোটেরও বিধান আবার চালু করতে হবে।
ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান বঙ্গদ্বীপ এম এ ভাসানী সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব আবু সালেহ মোহাম্মদ সেলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কনজারভেটিভ পার্টি সভাপতি আনিসুর রহমান দেশ, লোকশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান সাইকুল আলম টিটু, বাংলাদেশ বেকার সমাজের সভাপতি মোহাম্মদ হাসান, বাংলাদেশ ইনসাফ পার্টির সভাপতি মো. মিনহাজ প্রধান ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগের সভাপতি ডা. মো. মোরশেদ।
