আলো ডেস্ক: বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে গত কদিন ধরেই রাজধানী ঢাকা ছিল থমথমে। শুক্রবার সকাল থেকে গণপরিবহন চলাচলও ছিল সীমিত। ব্যস্ততম নগরী ছিল অনেকটাই ফাঁকা। গত শনিবার সকাল থেকেও ছিল একই অবস্থা। তবে পূর্বনির্ধারিত ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ শেষ হওয়ার পরদিন গতকাল রোববার সকাল থেকে চিরচেনা ব্যস্ততা ফিরেছে রাজধানীতে। গণপরিবহনও চলছে স্বাভাবিক দিনের মতো। গতকাল রোববার সকালে সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই যাত্রী, পথচারী ও যানবাহনের চাপে সড়কগুলোতে ছিল ব্যস্ততা। কর্মব্যস্ত মানুষ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। যথারীতি গণপরিবহনও চলতে দেখা গেছে।
এতে সকাল থেকেই নগরীতে ফিরেছে যানজটের চিরচেনা রূপ। গত শনিবার সায়েদাবাদ বার্স টার্মিনাল এলাকায় গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশ ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় মানুষের চলাচলও সীমিত হয়ে পড়ে। এরমধ্যে গত শুক্র ও শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তবে সেই চিত্র সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস গতকাল রোববার সকাল থেকে পাল্টে গেছে।
সকাল থেকেই রাস্তায় কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বেসরকারি যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় পরিচালনাধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসেরও দেখা মিলছে সড়কে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা পুলিশেরও কর্মতৎপরতা বেড়েছে। সরেজমিনে রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান এলাকায় গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। ঢাকা থেকে গতকাল দেশের সব অঞ্চলে বাস ছেড়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে গাজীপুর, সদরঘাট থেকে আব্দুল্লাহপুর, নতুন বাজার থেকে আমিনবাজার, কুড়িল থেকে আজিমপুর এবং পোস্তগোলা থেকে উত্তরা দিয়াবাড়িসহ প্রায় সব এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক থাকতে দেখা গেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোস্তাক আহমেদ বলেন, গত কয়েকদিন সড়কে গাড়ির চাপ কিছুটা কম ছিল বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে। গতকাল কোনো কর্মসূচি ছিলো না। সকাল থেকে সড়কে বিভিন্ন গাড়ির চাপ আগের মতো স্বাভাবিক রয়েছে।
বিএনপি তাদের গণসমাবেশটি করতে চেয়েছিল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়। তাতে রাজি না হলে সামনে আসে বিকল্প ভেন্যুর আলোচনা। এরমধ্যেই গত বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতাসহ কয়েকশো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। সংঘর্ষে মকবুল হোসেন নামের একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পরদিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার ডিবি কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওইদিনই বিকেলে বিএনপিকে গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় ডিএমপি।
