আলো ডেস্ক: টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি। একইসঙ্গে এ অঞ্চলের অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৮৮ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।
যা বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। একই সময়ে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এর আগে সকাল ৯টার দিকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। যা বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা পয়েন্টে ২২ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার, যমুনেম্বরী নদীর রংপুরের বদরগঞ্জ পয়েন্টে ৩০ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার, করতোয়া নদীর রহিমাপুর পয়েন্টে ১৮ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, তিস্তা অববাহিকার উজানে দ্রæতগতিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সব নদীর অববাহিকায় বসবাসরত জনসাধারণকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা পাড়ের মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে যেতে বলা হচ্ছে।
এর আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ইতোমধ্যে জেলার পাঁচ উপজেলার তিস্তা পাড়ের অন্তত ৩ লাখ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটছে। জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গীমারী, সিন্দুর্না ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছেন। গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত এসব পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে।
