আলো ডেস্ক: কুড়িগ্রামে ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপরে, বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র-তিস্তারও। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিকে নদ-নদীতে পানি বাড়ায় জেলা সদর, নাগেশ্বরী, ভ‚রুঙ্গামারীসহ চিলমারী উপজেলার কয়েশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
ধান, পাট ও শাকসবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে তিস্তা এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ছে। তবে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ধরলার পানি। এতে করে জেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে লালমনিরহাটে ভারি বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে তিস্তার পানি হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
ধরলা নদীর পানিও বিপৎসীমার ছুঁইছুঁই। ফলে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন দুই নদীপাড়ের বাসিন্দারা। গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টায় লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি ৫২.৭৪ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয় (স্বাভাবিক ৫২.৬০)। যা বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান। স্থানীয়রা জানান, এরইমধ্যে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে তিস্তা ও ধরলা নদীর পাশাপাশি জেলার অন্য নদ-নদীর পানিও বেড়েছে।
এতে ক্রমেই বাড়ছে দুর্ভোগ। জানা গেছে, তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি ও জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, তাঁতিপাড়া, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজানের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউনিয়নের রানীগঞ্জের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড, সিংঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউনিয়নের পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে।
পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে নিঘুম রাত কাটাচ্ছেন। হাতীবান্ধার চর সিন্দুর্না আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিস্তার পানি বিকেল থেকে হুহু করে বাড়ছে। নদীর তীরবর্তী হওয়ায় কয়েকদিন থেকে রাতে ঘুম আসছে না চোখে। কখন কী হয়। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, সন্ধ্যা থেকে ক্রমে তিস্তার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করে।
এতে শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, বন্যাসহ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
