স্টাফ রিপোর্টার-
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় মাত্র ১১২ টাকা খরচে ১৮ জনের চাকরি হয়েছে। নিজ নিজ যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীরা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। সাতটি ক্যাটাগরিতে এই ১৮ জনের সরকারি চাকরিতে অন্যকোন অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। অর্থাৎ রাজশাহী জেলা প্রশাসন স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিকেলে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এই ১৮ জন নতুন কর্মচারীদের ফুল দিয়ে নিজ কার্যালয়ে বরণ করে নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মুহাম্মদ শরিফুল হক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একজন প্রার্থীকে চাকরিতে আবেদন করতে গিয়ে সরকারি ও টেলিটকের ফি মিলে ১১২ টাকা খরচ করতে হয়েছে। নিয়োগের প্রক্রিয়াগুলোও খুব দ্রæততার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় মাত্র ১১২ টাকা খরচে ১৮ জনের চাকরি হয়েছে। নগরীসহ ৯টি উপজেলায় ভূমি অফিসের মোট ৭টি ক্যাটাগরিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিদ্যমান জনবল সংকটের সমাধান করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।
তথ্যমতে, উল্লেখিত ১৮টি শূণ্যপদের বিপরীতে অনলাইনে প্রায় ২২ হাজার প্রার্থী আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগের সকল প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করেই ১৮ জনের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শতভাগ স্বচ্ছভাবে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে। তাই রিকশাওয়ালা, কাঠমিস্ত্রি, পান বিক্রেতা, দিনমজুর ও বর্গাচাষির ছেলে-মেয়েরা নিয়োগের জন্য উত্তীর্ণ হয়েছেন। এদের অনেকের মোটা অংকের টাকা ঘুষ দেওয়ার সক্ষমতাও নেই। কেবল যোগ্য প্রার্থী হিসেবেই তারা নিয়োগ পেয়েছেন।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বিভাগীয় নির্বাচনী নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হয়েছে। ৯টি ভূমি অফিস নিয়ে রাজশাহী জেলা দেশের অন্যতম ভূমি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র। দীর্ঘদিন জনবল সংকট থাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনায় লক্ষ্য অর্জন দূরূহ হয়ে পড়ে। এ নিয়োগ রাজশাহী ভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এতে উন্নয়নের গতিও ত্বরান্বিত হবে।
পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার মুক্তার হোসেনের মেয়ে সামিয়া আক্তার বলেন, আমার বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। খুব কষ্টে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। মাত্র ১১২ টাকা খরচ করে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় ট্রেসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। আমার বাবার স্বপ্ন পূরণে আমি এগিয়ে যেতে চাই। দেশ ও মানুষের সেবা করার জন্য আমি কাজ করে যাব। ঘুষ ছাড়া সরকারি চাকরি পাবো কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি।
উল্লেখ্য, যে সাতটি ক্যাটাগরিতে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, নাজির কাম-ক্যাশিয়ার, মিউটেশন কাম-সার্টিফিকেট সহকারী, সার্টিফিকেট পেশকার, সার্টিফিকেট সহকারী, ড্রফটসম্যান, কার্যসহকারী ও ট্রেসার।
