স্টাফ রিপোর্টার-
নগরীর শহিদ নজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পোজিট একশনস ফর ক্লাইমেট মাইগ্রেন্টস ইন আরবান স্লাম প্রকল্পের আওতায় স্কুল স্যানিটেশন কমপ্লেক্স উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) কম্পোজিট একশনস ফর ক্লাইমেট মাইগ্রেন্টস ইন আরবান স্লাম (ক্যাকমাস) প্রকল্পের আওতায় ঋতুকালীন স্বাস্থ্যভ্যাস ব্যবস্থাপনা দিবসকে সামনে রেখে এই স্যানিটেশন কমপ্লেক্স উদ্বোধন করা হয়। সেই সাথে সিডিসি টাউন ফেডারেশন বরাবর ২টি মোবাইল টয়লেট হস্তান্তর করা হয়।
স্যানিটেশন কমপ্লেক্স উদ্বোধন ও মোবাইল টয়লেট হস্তান্তর কার্যক্রম বিষয়ক এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহিদ নজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দীন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শহিদ নজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি, রাজশাহী ওয়াসা বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও নারী নেত্রী শাহীন আকতার রেণী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল মমিন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের চীফ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার আজিজুর রহমান, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার সাঈফ মনজুর, বাংলাদেশ ওয়াটারএইডের জোনাল কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ রেজাউল হুদা মিলন, ও রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুন নবী অনু।
সিডিসি টাউন ফেডারেশন বরাবর ২টি মোবাইল টয়লেট হস্তান্তরের কারণ ভ্রাম্যমান জনগন যাতে খোলা জায়গায় যত্রতত্র মল-মুত্র ত্যাগ করে না করে। পরিবেশের ক্ষতি না করার পাশাপাশি যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠির যারা পার্শ্ববর্তি এলাকা থেকে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য প্রত্যহ শহর এলাকায় আসে তারা যাতে সহজেই মোবাইল টয়লেট ব্যবহার করতে পারে। যাতে পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, স্কুল স্যানিটেশন কমপ্লেক্স ৮টি সাধারন টয়লেট চেম্বার, ২টি ঋতুকালীন ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী বান্ধব টয়লেট বিদ্যমান। এছাড়া কভিড ১৯ অবস্থা বিবেচনায় এনে ২টি হ্যান্ডওয়াশিং স্টেশন ও ২টি নিরাপদ খাবার পানির স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে প্রতিটি হ্যান্ডওয়াশিং স্টেশনে একই সাথে ও একই সময়ে ৮ জন ব্যবহারকারী হাত ধৌত করতে পারবে ।
এছাড়া নিরাপদ পানির খাবার স্টেশন হতে একই সাথে ও একই সময়ে ৮ জন নিরাপদ পানি সংগ্রহ ও পান করতে পারবে। স্কুল স্যানিটেশন কমপ্লেক্সটি উদ্বোধনের মাধ্যমে এখন থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী আধুনিক ওয়াশ ফ্যাসিলিটি স্বাছন্দে ব্যবহার করতে পারবে। এই স্কুল স্যানিটেশন কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পে মোট ব্যায় হয়েছে ১১ লাখ ১১ হাজার ৬২৭ টাকা।
জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) এর অর্থায়নে ও ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ড (সিবিএফ) এর সহায়তায় ওয়াটারএইড ও ভার্ক, এর বাস্তবায়নে এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, সিডিসি টাউন ফেডারেশন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারের মধ্যে সমন্বয় করে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ওয়াটারএইড একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা।
বাংলাদেশে ওয়াটারএইড এর কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরু হয় ১৯৮৬ সালে। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ২৮ টি দেশে ওয়াটারএইড, দরিদ্র, দুস্থ ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠির নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যগত আচরণের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে একটি প্রসারযোগ্য অবস্থা তৈরি করা যেখানে কমিউনিটির জনগনের ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু সহিষ্ণু পানি, পায়খানার অবকাঠামো তৈরী ও স্বাস্থ্যবিধির উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ঝুঁকি হ্রাস করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে স্থানান্তরিত দরিদ্র অভিবাসীদের সক্ষমতা উন্নয়ন করে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি অতিদরিদ্রদের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও আয়বর্ধনমূলক কাজে নিয়োজিত করা এবং নগর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত ওয়াশ বিষয়ক সেবায় অভিগম্যতা নিশ্চিত করা।
প্রধান অতিথি বিশিষ্ট সমাজ সেবী শাহীন আক্তার রেণী বক্তব্যে বলেন, আগামী প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার, সেদিক থেকে চিন্তা করলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নত স্যানিটেশন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যগত আচরন পালনের ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি যে সমস্ত স্কুলে মেয়েরা লেখাপড়া করে, সে সমস্ত স্কুলে ঋতুকালীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা সমৃদ্ধ ল্যাট্রিন থাকা অত্যন্ত জরুরী। সেদিক থেকে চিন্তা করলে রাজশাহী বিভাগে এই প্রথম এ ধরনের উন্নত স্যানিটেশন কমপ্লেক্স, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা স্থাপন করার জন্য ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও ভার্ককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল মমিন, রাজশাহীতে স্কুল টয়লেটের পাশাপাশি আরো মোবাইল টয়লেট স্থাপনের জন্য অনুরোধ করেন পাশাপাশি পাবলিক টয়লেটের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের চীফ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার আজিজুর রহমান বক্তব্যে বলেন , ওয়াটারএইড কর্তৃক ঋতুকালিন ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ যে টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষণ ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যপারে স্কুল কর্তৃপক্ষকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান।
বাংলাদেশ ওয়াটার এইডের প্রজেক্ট ম্যানেজার সাঈফ মনজুর বলেন, নারীদের ঋতুকালীন বিষয়টি কোন লজ্জার বিষয় নয় বরং অত্যন্ত স্বাভাবিক, তাই এই বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের সচেতনতা আনয়নের ব্যাপারে সকলকে একযোগে কাজ করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন।
রেজাউল হুদা মিলন, বলেন কম্পোজিট একশন ফর ক্লাইমেট মাইগ্রেন্টস ইন আরবান স্লামস প্রজেক্ট, বাস্তবায়নে নগর মাতা শাহীন আক্তার রেনী’র ভূমিকাকে অত্যন্ত কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তাঁর অব্যহত সহযোগিতার কারনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গত ১০ মাসে জলবায়ু সহনীয় ১৬টি নলকূপ স্থাপন, ১৬টি নলকূপ সংস্কার ও ২২টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
এ কাজ চলমান থাকবে। আধুনিক রাজশাহী গড়ার ক্ষেত্রে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশকে আজ স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশ বান্ধব নগরী হিসাবে গোটা জাতীর কাছে পরিচিত। ওয়াটারএইড ও ভার্ক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য তিনি মেয়রকে আবারো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ শহরের বর্জ্যব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কার্যক্রম অন্য এলাকার জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে বলে পরিবেশবিদরা যে মতামত ব্যক্ত করেন তার উপর পূর্ন সমর্থন জানান।
শহীদ নজমুল হক উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে আব্বাস উদ্দীন আহমেদ বলেন, রাজশাহীতে ঋতুকালীন ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক মানের টয়লেট তাঁর স্কুলে স্থাপনে ব্যবস্থা করার জন্য তিনি প্রথমে প্রধান অতিথি , ওয়াটারএইড ও ভার্ককে ধন্যবান জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি এই স্কুল স্যানিটেশন কমপ্লেক্সটি যথাযথ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে বিশেষ নজর রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
