স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৪৩১-১৪৩৩ বঙ্গাব্দে সরকারি খাসপুকুর ইজারা প্রদানকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাদারপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য ও গোদাগাড়ী পৌর মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এএম বেলাল উদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সরকারি খাসপুকুর অবৈধভাবে লিজ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া লিজ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা ১২টায় রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এ এম বেলাল উদ্দিন। এর আগে তিনি একই বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলেও জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গোদাগাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় শরিফুল ইসলাম বিশু নামের এক ব্যক্তি সরকারি খাসপুকুর লিজ সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি প্রভাব খাটিয়ে জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যসচিবকে বিভ্রান্ত করে অনিবন্ধিত, ভুয়া এবং নিবন্ধন বাতিল হওয়া সমবায় সমিতির নামে-বেনামে বিপুলসংখ্যক খাসপুকুর ইজারা নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশেষ করে ১৪৩১-১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ইজারা প্রক্রিয়ায় অনেক পুকুরের মূল্য প্রকৃত বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি নির্ধারণ করা হয়, যাতে প্রকৃত সমবায় সমিতিগুলো অংশ নিতে না পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে বেশি মূল্য দেখিয়ে পরে চূড়ান্ত তালিকায় মনোনীত ব্যক্তিদের অস্বাভাবিক কম মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মৎস্যজীবী সমিতিগুলো বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
গোদাগাড়ী পৌর মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এএম বেলাল উদ্দিন আরও বলেন, কয়েকটি ক্ষেত্রে নিবন্ধনবিহীন ও ভুয়া সমবায় সমিতির নামে ইজারা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ট্রেজারি চালান একাধিক পুকুরের ক্ষেত্রে ব্যবহার, জাল কাগজপত্র দাখিল, প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই লিজ প্রদান এবং আদালতে রিট বা মামলা দেখিয়ে বহু পুকুর দীর্ঘ সময় ধরে ভোগদখলে রাখার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে হাইকোর্টের ২৫৮ নম্বর রিটের আলোকে এখনো কিছু পুকুর ভোগদখলে রাখা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর খুব অল্প সময় দেওয়া হয়, যাতে সাধারণ সমবায় সমিতিগুলো আবেদন করার সুযোগ না পায়। এ সুযোগে একটি চক্র নিজেদের অনুকূলে তালিকা তৈরি করে পুকুর ইজারা নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে এসব পুকুর আবার সাধারণ চাষিদের কাছে বেশি দামে লিজ দেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলার জোতজীবন পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, তাঁর নামে জাল স্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি এ ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী পৌর মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ, মৎস্যজীবী সামিম রেজা ও নবীন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০০৯ ও সংশোধিত ২০১২ অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ এবং নিকটবর্তী বা তীরবর্তী প্রকৃত সমবায় সমিতির অনুকূলে ইজারা প্রদান করা হলে অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে। তারা ১৪৩১-১৪৩৩ বঙ্গাব্দে অবৈধভাবে ইজারা দেওয়া পুকুরগুলো বাতিল, নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা প্রদান, তদন্ত কমিটি গঠন এবং জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
