আজহারুল ইসলাম বুলবুল
রাজশাহীর দুর্গাপুরে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন চক্রের দৌরাত্ম্য স্থানীয় মানুষের জন্য এক ভয়ংকর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে এলাকার বহু তিন ফসলি উর্বর জমি রাতারাতি দীঘি বা গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে। শীত, বোরো ও আউশ-এই তিন মৌসুমে নিয়মিত ফসল হতো এমন জমিগুলোতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পুকুর খনন করে ফেলা হয়েছে। এতে উৎপাদন কমে যায়, বর্ষায় পানিতে পাশের জমি ডুবে যায়, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে ফসল রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে। গত কয়েক বছরে এসব অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালী চক্রের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। শুধু তাই নয়, অবৈধ পুকুর খনন চক্র বরেন্দ্র অঞ্চলের ডীপ টিউবওয়েলের পাইপ, মোটর ও সেচ সরঞ্জামও ধ্বংস করেছে। যা শত শত কৃষকের সেচ সুবিধা ব্যাহত করছে। তবে সম্প্রতি দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নুর তানজু মাঠে নেমে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন করেছেন। তার দাপুটে পদক্ষেপ আর নিয়মিত অভিযানে পুরো পুকুর খনন চক্র এখন আতঙ্কে রয়েছে । অভিযান পরিচালনা করে কখনো ভেকুমেশিন অকেজো, জেল-জরিমানাসহ ভুমি সুরক্ষা আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। অবৈধভাবে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন বন্ধে তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান এ চক্রের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকে আবার ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অনেক সময় রাতের অন্ধকারেই ভেকু মেশিন দিয়ে গোপনে খনন হতো। এসব কর্মকাÐেই তিন ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্গাপুরে সম্প্রতি অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে এসিল্যান্ড লায়লা নুর তানজু’র দাপুটে পদক্ষেপে কৃষকের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তিন ফসলি জমি ও ডীপ টিউবওয়েল সেচ সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ দীর্ঘদিনের অবৈধ চক্রের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে। জানাযায়, এসিল্যান্ড লায়লা নুর তানজু যোগদানের পর থেকে এ উপজেলায় ১২/১৪ স্থানে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন শুরু হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিক্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। তার দৃঢ় অবস্থান ও নির্দেশনায় পুকুর খনন চক্রে নেমে আসে চরম আতঙ্ক।
উপজেলার উজালখলসি এলাকার কৃষক সাজাহান জানান, আমাদের আবাদি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছি। এ অভিযানে অনিয়মকারীদের মধ্যে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। আমরা চাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে এমন অভিযান চলমান থাকুক। নওপাড়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার বলেন,“এসিল্যান্ড মহোদয়ের নেতৃত্বে প্রশাসন দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় কৃষক ও সাধারণ মানুষ স্বস্তি অনুভব করছেন। এটি একটি ভালো উদাহরণ হয়ে থাকবে।
জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভুমি) লায়লা নুর তানজু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। যারা আইন অমান্য করে পুকুর খনন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষি জমি সুরক্ষা ও রক্ষার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সার্বজনীন অনুবিভাগ থেকে জেলা প্রশাসক স্যারের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনকে জরুরি নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।
