আলো ডেস্ক:
রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড) সামনে জনসম্মুখে ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত শুক্রবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- আলমগীর (২৮) ও মনির ওরফে লম্বা মনির (৩২)।
গতকাল শনিবার দুপুরে কাওরান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শহিদুর রহমান। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গত ৯ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে ডিএমপির কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর থেকেই র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এবং ছায়া তদন্ত চালায়। পরে গত শুক্রবার কেরানীগঞ্জ থেকে ওই দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে র্যাব ডিজি বলেন, মিটফোর্ডের ঘটনার মূল তদন্ত করছে ডিএমপি। আমরা তাদের সহযোগিতা করছি। এখনও ছায়া তদন্তে এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছাইনি, যাতে বিস্তারিত কিছু জানানো যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি স্থানীয় ব্যবসা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে এই হত্যাকা-ে জড়িত মোট পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ হত্যার ঘটনায় র্যাব ও পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত এজহারনামীয় পাঁচ জনকে গ্ররফতার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার বাকিরা হলো- মাহমুদুল হাসান মহিন (৪১), তারেক রহমান রবিন (২২) ও টিটন গাজী। এদিকে, রাজধানীসহ সারা দেশে অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে একাধিক আলোচিত মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শহিদুর রহমান বলেন, আইনের শাসন, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে র্যাব আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে।
হত্যা-মব-নারী নির্যাতনসহ প্রতিটি অপরাধের দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতে আমরা বদ্ধপরিকর। চট্টগ্রামে স্ত্রীকে খুন করে ১১ খণ্ড করে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির বিষয়ে র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, গত ৯ জুলাই চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ১১ টুকরো করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে রেখে পালিয়ে যায় মো. সুমন (৩৫)। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ভাই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন রুবেল বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন।
তদন্তে নেমে র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা, র্যাব-৭ ও র্যাব-৯ এর যৌথ অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। র্যাব মহাপরিচালক জানান, সম্প্রতি সংঘটিত বেশ কয়েকটি মব ভায়োলেন্সের ঘটনায় প্রায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২ জুলাই লালমনিরহাটে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় র্যাব ডিজি একেএম শহিদুর বলেন, পাটগ্রামে মব হামলায় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৩ জুলাই কুমিল্লার মুরাদনগরে মা ও দুই শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুমিল্লায় নারী নির্যাতন করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রধান অভিযুক্ত শাহ পরানসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভোলায় তজুমদ্দিন উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে স্বামীকে মারধর ও স্ত্রীকে ধর্ষণের মামলার আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
২ জুলাই মোহাম্মদপুরের আলোচিত কজিকাটা গ্রুপের অন্যতম সহযোগী টুন্ডা ভাবুকে নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এছাড়া অপহরণে জড়িত সাত জনকে আটক এবং শিশুসহ দুই জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ বিষয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, মো. হাফিজ উল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গাকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি করে সন্ত্রাসীরা। ১৩-১৪ জুন অভিযানে পাঁচ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার হয়।
২৯ জুন কুমিল্লায় শিশু অপহরণের ঘটনায় অপহৃত সাত বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আট দিন পর উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, ৭ জুলাই রাজশাহীর টিকাপাড়া থানায় পুলিশের লুণ্ঠিত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করে র্যাব। প্রতারণায় জড়িত নারীসহ তিন বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ৭ জুলাই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় এক নারী ও দুই বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের পোশাক ও পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকা-ে জড়িত পাঁচ জন ভুয়া র্যাব সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বাহিনীটি।
