বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি
কোচিং শিক্ষকের গাইড নিতে যাচ্ছিল আঠারো বছর বয়সী কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রী। গ্রামের বাজারের একটি দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ডাকেন দোকানদার। কাছে গেলেই ছাত্রীকে হাত ধরে টেনে দোকানের ভেতর নিয়ে আরেক সহযোগির সহযোগিতায় দ্রুত শাটার বন্ধ করে দেন। এর পর মেয়েটিকে ওই দোকানদার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া বাজার এলাকায় গত ১৬ মার্চ শেষ বিকেলে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ওই ছাত্রী। এ ঘটনায় গত ১৭ মার্চ সোমবার রাতে ভুক্তভোগী ওই কলেজ ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ৯(১)/৩০ ধারায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং ২২।
মামলার আসামিরা হলেন- তানোরের চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নের দেওতলা গ্রামের আনছার আলী ছেলে মূল অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন (২৮) ও তাঁর বাবা আনছার আলী (৬৫) এবং একই গ্রামের মৃত চেরু মন্ডলের ছেলে চা দোকানি মালেক (৬০)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের গত ১৬ মার্চ বিকেলে ওই কলেজ ছাত্রী তাঁর শিক্ষকের বাসায় গাইড নিতে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া বাজারস্থ পূর্বপরিচিত ইকবাল নামে এক মুদি দোকানি ওই ছাত্রীকে তাঁর দোকানের মধ্যে ডেকে নিয়ে পাশ্ববর্তী চা দোকানি মালেকের সহযোগিতায় সে তাঁর দোকানের শার্টার লাগিয়ে দেয়। এসময় দোকানের মধ্যে অবস্থান করা ওই ছাত্রীকে জোর করে ধর্ষণ করে মুদি দোকানি ইকবাল। ওইদিন সন্ধ্যায় ধর্ষণ শেষে ওই ছাত্রীকে তাঁর দোকান থেকে বের করে দেয় ইকবাল। পরে অভিযুক্তের বাবা আনছার আলী ওই ছাত্রীকে উল্টো দোষারপ করে তাঁর পরিবারের কাছে রেখে আসে। পরদিনও এবিষয়ের কোন সুরাহা না পেয়ে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর মা ও বাবা থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মুদি দোকানি ইকবাল ও তাঁর বাবার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়ায় কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা এবিষয়ে বলেন, ঘটনা সত্য। তবে ওই কলেজ ছাত্রীর সাথে র্দীঘদিন ধরে সর্ম্পক ছিলো মুদি দোকানি ইকবালের।
এনিয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, উক্ত ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ১৮ মার্চ মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।
